|
শেষ বিকেল। ফিরছে সবাই ঘরে। চারদিকে কেবল মানুষের কোলাহল। সন্ধ্যে হচ্ছে। এমন সময়ে ফার্মগেট এর ফুটপাতটির ওপর ঘুমিয়ে আছে সেলোয়ার কামিজ পড়া ১০ বছরের শিশু রত্না। তার চারপাশেও মানুষ আর মানুষ। ছুটছে দিক-বিদিক। ফুটপাতাটির একপাশে লোহার রেলিং অন্যপাশে হকারদের পসরা। মাঝে ছুটে চলা মানুষের পথ। এই রেলিং এর পাশেই ঘুমিয়ে আছে রত্না। গায়ের ওড়নাটি মাথার নিচে। প্রতি মুহূর্তে পথচারীদের পা স্পর্শ করছে তাকে। ঘুমের মধ্যে তা বুঝতে পারছে না রত্না। দু’একজন সচেতন মানুষ তাকে রক্ষা করে চলার চেষ্টা করলেও পথচারীদের ধাক্কায় তাও পারছেন না ...
|
|
|
ছোট্ট সীন জানে না যাকে সে মা বলে ডাকছে সে আসলে তার খালা। আসল মা, বাবা তাদের ক্যারিয়ার গড়তে এতটাই ব্যস্ত যে নিজ সন্তানের কাছে তাদের পরিচয়টি হারিয়ে ফেলেছে। মা-বাবার সাথে সন্তানের যে অকৃত্রিম সম্পর্ক থাকার কথা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সে। বড় হয়ে আসল ঘটনা জানার পর মা-বাবা অবহেলা করেছে এরকম ধারণা থেকে সীনের মানসিকতায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন তরুণ চিকিৎসক ডা. তারেক। অপরদিকে সীনের কারনেই পরিবারটির মধ্যেও টানাপোড়েন হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন ...
|
|
|
আয়শা আক্তার আশা, মানিকগঞ্জ, ২৭ আগস্ট (আইএনবি ওয়ার্ল্ড ডট নেট) : ফুঁলচান আবার স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু বাধ সেধেছে তার দোকান মালিক। মালিকের সাফ কথা ফুঁলচান স্কুলে গেলে সে নতুন কর্মচারী রাখবে। লেখাপড়ার চাইতে ফুঁলচানের চাকুরিটা জরুরি। চাকরি না থাকলে পেটে ভাত নেই। তাই বাধ্য হয়ে চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে উঠেই স্কুল ছাড়তে হয়েছে ফুঁলচানকে। মানিকগঞ্জের শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সব ছাত্রেরই ফুঁলচানের মত অবস্থা। স্কুলটি মুলত শ্রমজীবী শিশুদের জন্য চালু করা হয়েছে ...
|
|
|
“বড় হইয়া বড় বাস চালামু” -এভাবেই নিজের ইচ্ছার কথা জানালো দশ বছর বয়সের টেম্পু হেলপার আব্বাস। এযেন কবী সুকান্তের কবিতার উপমা পূর্ণীমার চাঁদ যেন ঝলশানো রুটি। আব্বাসের প্রতিকূল জীবনে এর চাইতে বড় কিছু চিন্তাও করতে পারেনা সে। অশিক্ষা, অজ্ঞতা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যত আব্বাসকে এমনকি বড়কিছু হওয়ার কল্পনা করাতেও শেখাতে পারেনি ...
|
|
|
মেধাবী ছাত্র শাহিন শেখের আক্ষেপ টাকা পয়সা নেই। তাই বলে কি আমার পড়াশুনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে ? বাবা মারা গেছে অনেকদিন আগে। সংসারের খরচ যোগানোর দায়িত্ব মায়ের উপর। সংসারের খরচ যোগাতে ওদের জমি-জমা বলতে কিছুই নেই। কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটে যায়। সকালে আধাপেট হলেও অনেক সময় রাত্রের নিশ্চয়তা থাকে না। টানাটানির এই সংসারে যখন দু-বেলা দু-মুটো ভাত যোগানোই দায় সেখানে পড়াশুনার খরচ যোগানো কিভাবে সম্ভব। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার কুমারগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শাহিন শেখ। বাবা পদতুল্লাহ মারা গেছেন। এখন শাহিনের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন তার মা ছালমা বেওয়া ...
|
|
|
‘মার খুব অসুখ। ডাক্তার কইছে ২০ হাজার ট্যাহা লাগবে। আব্বায় রিক্সার গেরেজে কাম করি। সারাদিন কাম করিয়া ৯০-১০০ টাকা পাই। যা চাইডা ডাল-ভাত খাইয়া থেকতেই ভিষন কষ্ট হয়। বাপের কোন জমি-জমা নেই দেইখ্যা বাসা ভাড়া করে থাকি। তারপরে মার অসুখে চিকিৎসার টাকা পাউম কই? এহন মোর কাম না করলে মারে ভালো করা যাবে না। তাই এই চায়ের দোকানে কাম করি। সারাদিন এ অফিস ও অফিসে চা দিয়ে সন্ধার সময় ৪০-৫০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরি।’ এভাবে চোখে টলমল পানি নিয়ে কথা গুলো বলল, ১০ বছর বয়সের শিশু হেলাল ...
|
|
|
অবশেষে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বিভিন্ন স্কুল পড়–য়া ছাত্রীদের বখাটেদের উৎপাত থেকে রক্ষা করতে সদর থানা পুলিশ এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য সদর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জেলা শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঘুরে ঘুরে ছাত্রীদের অভিযোগ শুনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনেরও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি এসকল বিষয়ে তিনি স্কুলের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন ...
|
|
|
শিশুটির নাম কাওসার ফকির। বয়স আনুমানিক সাড়ে ৫ থেকে ৬ বছর। তার বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ার ফুল্লশ্রী গ্রামের ১ নং ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। তার বাবার নাম জব্বার ফকির। কাওসার তার বড় সন্তান। জব্বার পেশায় একজন দিনমজুর। যে বয়সে কাওসার স্কুলে যাওয়ার কথা সেখানে ...
|
|
|
১২ বছরের শিশু ফরিদ। পরনে নোংরা শার্ট, ছেড়া প্যান্ট। খসখসে ধুলোমাখা শরীর। হাত-পায়ের বিভিন্ন যায়গায় দগদগে ঘা। বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার এ বয়সেই শিশু ফরিদ আসক্ত হয়েছে ভয়াবহ এক নেশায়। জুতা-স্যান্ডেলের সোল জোড়া লাগানোর জন্য ব্যবহৃত গাম বা আঠা দিয়ে বিশেষ উপয়ে নেশা করে ফরিদ। আর তারমত রাজধানীর অসংখ্য ছিন্নমূল শিশু এখন প্রতিদিন গাম দিয়ে নেশা করছে স্কুলে যাওয়ার এ বয়সেই ....
|
|
|
৯ আগস্ট ছিল আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। দিবসটিতে আদিবাসী শিশুরা সেজেছিল নতুন নতুন সাজে। কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত আর সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের মধ্যে ব্যবধানটি ছিলই। যেমনটি লক্ষণীয় উপরের ছবি দু'টিতেও...
|
|
|
মোল্লা নাসিরুদ্দীন নামে অনেক গল্প প্রায় হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানা দেশে লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মতে এই সব গল্পের জন্ম তুরস্কদেশে, কারণ সেখানে এখনো প্রতি বছর নাসিরুদ্দীনের জন্মোৎসব পালন করা হয়। মোল্লা নাসিরুদ্দীন যে ঠিক কেমন লোক ছিলেন সেটা তাঁর গল্প পড়ে বোঝা মুশকিল..
|
|
|
কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা থেকে সামান্য পায়ে হাটলেই পান্থকুঞ্জ। ব্যস্ত শহরে সামান্য বিশ্রামের জন্য ছোট্ট একটু জায়গা। ঘাসের সবুজ গালিচার মাঝে কিছু বড় বড় গাছ আর বেঞ্চ। বেঞ্চ গুলোতে পথশিশুদের ভীড়। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পার্কটি সর্ব সাধারণের জন্য বন্ধ থাকলেও পথশিশুদের জন্য উন্মুক্ত...
|
|
|
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার পর সংস্কারের ছোয়া পেয়েছে জামালপুর পৌর শিশুপার্ক। ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য কাজ চলেছে পুরোদমে। শিঘ্রই পার্কটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ দখলদারদের থেকে উদ্ধারকৃত সরকারী জমিতে শহর রক্ষা বাঁধের মাধ্যমে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে...
|
|
|
শহরের প্রধান সড়কের দয়াময়ী মোড় থেকে পূর্ব দিকে সোজা এগোলে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের পাশেই হরিজন কলোনী। প্রধান ফটক পার হলে সামনে চোখে পড়বে জারাজীর্ণ ছোট ছোট ঝুঁপড়ি ঘর, কালীমন্দির। রয়েছে পায়ে হাটার সরু পথ। আর এই সরু পথ ধরে কলোনীর ভেতরে প্রবেশ করলেই নাকে আসবে মদের উৎকট গন্ধ। যে গন্ধে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে। আর এরই মাঝে বসবাস করছে কলোনীর দুই শতাধিক শিশু.....
|
|
|
উইকিপিডিয়া বলতে গেলে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অথবা এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা'র জায়গা দখল করতে বসেছে। সেগুলোরও সেদিন মনে হয় খুব বেশি দূরে নয়, যখন কাগজে করবে না ঘরের বুক শেলফগুলো। আসলে উইকিপিডিয়া জিনিসটা কি? সহজ উত্তর এটা হচ্ছে ওয়েব ভিত্তিক সীমাছাড়া, বিষয়ের বহুভাষী একটা বিশ্বকোষ বা এনসাইক্লোপিডিয়া...
|
|