| ফাতেমা আক্তার পাপড়ি, মাদারীপুর, ২৭ আগস্ট (আইএনবি ওয়ার্ল্ড ডট নেট) : ‘মার খুব অসুখ। ডাক্তার কইছে ২০ হাজার ট্যাহা লাগবে। আব্বায় রিক্সার গেরেজে কাম করি। সারাদিন কাম করিয়া ৯০-১০০ টাকা পাই। যা চাইডা ডাল-ভাত খাইয়া থেকতেই ভিষন কষ্ট হয়। বাপের কোন জমি-জমা নেই দেইখ্যা বাসা ভাড়া করে থাকি। তারপরে মার অসুখে চিকিৎসার টাকা পাউম কই? এহন মোর কাম না করলে মারে ভালো করা যাবে না। তাই এই চায়ের দোকানে কাম করি। সারাদিন এ অফিস ও অফিসে চা দিয়ে সন্ধার সময় ৪০-৫০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরি।’ এভাবে চোখে টলমল পানি নিয়ে কথা গুলো বলল, ১০ বছর বয়সের শিশু হেলাল।
মাদারীপুর জেলার শহরের সরকারী নাজিমউদ্দিন কলেজ গেট সংলগ্ন চায়ের দোকানে শ্রমিকের কাজ করে শিশু হেলাল উদ্দিন। সংসারের টানা-পোড়া অবস্থা-মায়ের অসুখের চিকিৎসার টাকা যোগার সব মিলেয়ে সংসারে বোঝা মাথায় নিতে হল কঁচি বয়সের শিশু হেলালের। যে বয়সে হইহুল্লা করে বন্ধু-প্রতিবেশি ছেলেমেয়েদের সাথে থাকার কথা সে বয়সে সংসারে বোঝা মাথায় নিতে কঠিন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছে শিশুটি।
আলাপকালে জানা যায়, এত ছোট বয়সে এই কঠিন কাজ করতে তোমার কষ্ট হয় না বলতেই। ‘ভাই কি করমু বাড়িতে গেলে মায়ের অসুখ দেখলে পরানে পানি থাকে না। আব্বার কাছে বললে হুমকি দেয় ‘টাহা পাউম কই’। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন চায়ের দোকানে কাম করি। সকালে ইটেরপুল এক দোকানে বিকেলে কলেজ গেটের এই দোকানে কাজ করে ৪০-৫০ টাকা কামাই করি। আর কষ্টের কথা বইলা কি হবে। ৯-১০ চায়ের কাপ নিয়ে এই অফিসে ঐ অফিসে যাইতে হয়। অনেক সময় রাস্তা পাড় হইতে হয় ভয়ে কহন গাড়িতে চাপা দেয়। আবার চা দিতে একটু দেরি হলে ধমক খেতে হয়। এভাবে দিনের পর দিন কাজ করতে হয়’। এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে ৪০-৫০ টাকা দিয়ে কি বা হয় তবুও বাবার সংসারে কিছুটা আয় বাড়াতে কঠিন কাজ করে শিশু কোমল মনটা অতিষ্ট হয়ে যায় মাঝে মাঝে।
শিশু হেলালের পড়াশুনার প্রতি অদম্য আগ্রহ থাকার পরেও দারিদ্র্যের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে চায়ের দোকানে কাজ করছে। একটু সুযোগ পেলে হেলাল পড়াশুনা করতে পারতো। সমাজের কোন বিত্তবান ব্যক্তি যতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে হয়তো শিশু হেলাল কষ্টের জীবন থেকে স্কুলগামী হতে পারে। (শিশু সাংবাদিক, শিশু প্রকাশ)
|