| হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, গাইবান্ধা, ২৭ আগস্ট (আইএনবি ওয়ার্ল্ড ডট নেট) : মেধাবী ছাত্র শাহিন শেখের আক্ষেপ টাকা পয়সা নেই। তাই বলে কি আমার পড়াশুনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে ? বাবা মারা গেছে অনেকদিন আগে। সংসারের খরচ যোগানোর দায়িত্ব মায়ের উপর। সংসারের খরচ যোগাতে ওদের জমি-জমা বলতে কিছুই নেই। কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটে যায়। সকালে আধাপেট হলেও অনেক সময় রাত্রের নিশ্চয়তা থাকে না।
টানাটানির এই সংসারে যখন দু-বেলা দু-মুটো ভাত যোগানোই দায় সেখানে পড়াশুনার খরচ যোগানো কিভাবে সম্ভব। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার কুমারগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শাহিন শেখ। বাবা পদতুল্লাহ মারা গেছেন। এখন শাহিনের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন তার মা ছালমা বেওয়া।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসার থেকে অনেক লড়াই সংগ্রাম করে পড়াশুনায় কখনোই হার মানতে রাজি নয় শাহিন। ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। অর্থনৈতিক সংকট আর অভাবের কারনে শহরের কোন স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি সে। ভর্তি হয় তালুক জামিরা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। নানা সমস্যা আর সংকটের সাথে লড়াই করেই শাহিন চালিয়ে যায় তার লেখাপড়া। ২০০৭ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিযে সেখানেও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায় শাহিন। সে এখন নবম শ্রেনীর ছাত্র। নবম শ্রেণীতেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে শাহিন। নবম শ্রেনীতেও তার রোল ১।
কিন্তু মেধা থাকার পরও শাহিনের চোখে মুখে কেবলই দুশ্চিন্তার ছাপ। সে কি পারবে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে? সে কি পারবে তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে? সমাজের বিত্তবান জনগোষ্ঠির কেউই কি পারে না শাহিনের মতো মেধাবি ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে মেধা বিকাশে সাহায্য করতে ? (শিশু সাংবাদিক, শিশু প্রকাশ) |