| মফিজুল ইসলাম রাতুল, মানিকগঞ্জ, ২৭ আগস্ট (আইএনবি ওয়ার্ল্ড ডট নেট) : “বড় হইয়া বড় বাস চালামু” -এভাবেই নিজের ইচ্ছার কথা জানালো দশ বছর বয়সের টেম্পু হেলপার আব্বাস। এযেন কবী সুকান্তের কবিতার উপমা পূর্ণীমার চাঁদ যেন ঝলশানো রুটি। আব্বাসের প্রতিকূল জীবনে এর চাইতে বড় কিছু চিন্তাও করতে পারেনা সে। অশিক্ষা, অজ্ঞতা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যত আব্বাসকে এমনকি বড়কিছু হওয়ার কল্পনা করাতেও শেখাতে পারেনি।
রোগা পাতলা আব্বাসকে দেখলেই বোঝা য়ায় পুষ্টির যথেষ্ঠ অভাব রয়েছে। ছেড়া-ফাটা জামা কাপড়ে ছন্নছাড়া চেহারার আব্বাসকে দেখলে যে কারো বুকটা মোচড় দিয়ে উঠবে। অথচ এই অপুষ্ট শরীর নিয়েই সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এক নাগারে গাড়ীর পা দানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় তাকে। চিৎকার করে প্যাসেঞ্জার ডাকে। পুরো নাম মোঃ আব্বাস আলী। মানিকগঞ্জ সদর থানার বোয়ালী গ্রামের আশরাফ আলীর চার সন্তানের মধ্যে বড়। বাবা ছিলেন টেম্পু ড্রাইভার। তার হঠাৎ মুত্যু আব্বাসকে বাধ্য করেছে স্কুলের আঙ্গিনা থেকে টেম্পু গাড়ীর হেলাপার হতে। আব্বাসের সাথে আলাপ কালে সে জানালো তার কষ্টের কথা। বাবা বেঁচে থাকতে অভাব থাকলেও তিনবেলা না হোক দু’বেলা খাবার জুটত। স্কুলেও যেত আব্বাস। কিন্তু বাবার হঠাৎ মৃত্যুতে আরো তিন সন্তানকে নিয়ে অথৈই সাগড়ে পড়েন মা হানিফা বেগম। বাড়িবাড়ি কাজ করে সংসার চালানো দায়। বাধ্য হয়ে আব্বাসকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে টেম্পুগাড়ীর হেলপারের কাজে ঢুকিয়ে দেয়। টানা দশ বারো ঘন্টা কাজের বিনিময়ে আব্বাসের মাসিক বেতন ৮’শ টাকা। ছোট এক ভাইও কাজ করে একটা দোকানে। কথা বলার এক সময় কেঁদে ফেলে আব্বাস। “বাবা কেন মরল, বাইচা থাকলে তো আমার এত কষ্ট করন লাগতো না।” হাতের তালু দেখিয়ে বললো, দেখেন ভাই টেম্পুর হেন্ডেল ধইরা কড়া পইরা গেছে। আব্বাস জানালো, রোদ বৃষ্টি শীতেও কাজে ফাকি দেয়ার উপায় নেই। হাজির হতে না পারলে হিসাব করে বেতন কেটে রাখা হয়। অসুখ বিশুখেও ছাড় নেই। লেখাপড়া শিখে তোমার বড় মানুষ হতে ইচ্ছা করে না? এই প্রশ্নে হাত দিয়ে উচ্চতা দেখিয়ে আব্বাসের উত্তর ছিল, আগের থ্যাইক্যা তো বড় হইছি। লেখাপড়ার আবার দরকার কি? প্রশ্নটি বুঝিয়ে বলতে খুব সহজেই বলল, লেখাপড়ার দরকার নাই। বড় হইলে গাড়ীর ড্রাইভার হমু। ওস্তাদ কইছে গাড়ি চালানো শিখাইয়া দিব। তার শখের কথা জিজ্ঞাসা করতে বললো, তার ইচ্ছা বড় বড় ট্রাক চালানোর কথা। ট্রাক চালইতে পারলে বেতন বেশি। (শিশু সাংবাদিক, শিশু প্রকাশ)
|