| আয়শা আক্তার আশা, মানিকগঞ্জ, ২৭ আগস্ট (আইএনবি ওয়ার্ল্ড ডট নেট) : ফুঁলচান আবার স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু বাধ সেধেছে তার দোকান মালিক। মালিকের সাফ কথা ফুঁলচান স্কুলে গেলে সে নতুন কর্মচারী রাখবে। লেখাপড়ার চাইতে ফুঁলচানের চাকুরিটা জরুরি। চাকরি না থাকলে পেটে ভাত নেই। তাই বাধ্য হয়ে চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে উঠেই স্কুল ছাড়তে হয়েছে ফুঁলচানকে। মানিকগঞ্জের শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সব ছাত্রেরই ফুঁলচানের মত অবস্থা। স্কুলটি মুলত শ্রমজীবী শিশুদের জন্য চালু করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ঝরে পড়তে বাধ্য হচ্ছে।
রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের অধিনে মানিকগঞ্জ ৮৮নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি রুমে চলছে স্কুলটির কার্যক্রম। জেলা প্রশাসক স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং সদস্য সচিব হচ্ছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ১ জন প্রধান শিক্ষক ও ২ জন সহকারি শিক্ষক ৫ টি শ্রেণীর ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান করাচ্ছেন। স্কুলটির প্রথম শ্রেণীর ক্লাস আলাদা ভাবে নেয়া হলেও শিক্ষক স্বল্পতার কারনে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাস একসাথে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস একসাথে নেয়া হয়। প্রতিটি ছাত্রকে প্রতি মাসে ১’শ টাকা হাওে শিক্ষা উপকরণ দেয়া হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শর্মীলা আচার্য্য জানান, স্কুলটির মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতি বছর তাদের জন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু একটি কর্মজীবী শিশুকে স্কুলে ধরে রাখার জন্য এই সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ঠ নয়। তিনি আরও বলেন, প্রায় প্রতিটি শিশু সকালে স্কুলে আসে না খেয়ে। এদের টিফিনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পুষ্টি এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে এদের প্রায় সবাই নানান রোগে আক্রান্ত। তাই শিশুদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এদের প্রায় সবাই বিভিন্ন দোকানে বাসা-বাড়িতে কাজ করে পেট চালায়। কর্মস্থলে এদের উপর নির্যাতন করা হয়। তারপরও পেটের তাগিদে এরা বাধ্য হয় কাজ করতে। ফলে পড়ালেখায় এদের মন বসে না। তাই শিশুদের উপযোগী কাজের ব্যবস্থা করতে পারলে লেখাপড়ায় মনোযোগী হবে। ঝরে পরার হার কমে যাবে বলে তিনি জানান। (শিশু সাংবাদিক, শিশু প্রকাশ)
|