| তাহরিমা হোসেন মুন, গাজীপুর, ২৮ আগস্ট (আইএনবি ওয়ার্ল্ড ডট নেট) : ছোট্ট সীন জানে না যাকে সে মা বলে ডাকছে সে আসলে তার খালা। আসল মা, বাবা তাদের ক্যারিয়ার গড়তে এতটাই ব্যস্ত যে নিজ সন্তানের কাছে তাদের পরিচয়টি হারিয়ে ফেলেছে। মা-বাবার সাথে সন্তানের যে অকৃত্রিম সম্পর্ক থাকার কথা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সে। বড় হয়ে আসল ঘটনা জানার পর মা-বাবা অবহেলা করেছে এরকম ধারণা থেকে সীনের মানসিকতায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন তরুণ চিকিৎসক ডা. তারেক। অপরদিকে সীনের কারনেই পরিবারটির মধ্যেও টানাপোড়েন হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
সীনের মা সৈয়দা জেসমিন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যৎ সমিতি মানিকগঞ্জ শাখায় এবং বাবা শরীফুল হক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র গাজীপুরে কর্মরত। সকালেই স্বামী-স্ত্রী বেরিয়ে যায় কর্মস্থলে। ছোট্ট সীনের ভার পড়ে খালা সৈয়দা নাসরিনের উপর। সকালে যখন সীন ঘুমিয়ে থাকে তখন মা-বাবা বেড়িয়ে যায় কাজে। রাতে যখন দু’জন ফিরে আসে ততক্ষণে সীন ঘুমিয়ে পড়ে। নিজের ছেলে মেয়ে বড় হওয়াতে সীনকে মায়ের আদরেই আগলে রাখছে খালা নাসরীন। খালাতো ভাই-বোনদের মত খালাকেই মা বলতে শিখেছে সীন।
নিজের মেয়ে মা বলে ডাকে না এনিয়ে দুঃখ আছে জেসমিনেরও। কিন্তু সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে চাকুরিটাও ছাড়তে পারছে না তিনি। এঅবস্থায় অসহায় জেসমিন মনে করেন প্রতিটি কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকার প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, তার মতই আরো অনেক কর্মজীবী মা একই ধরণের সমস্যায় ভুগছে। একজন মা হিসাবে তার বাচ্চাকে সময় দিতে না পারায় দুজনের মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
এব্যাপারে মানিকগঞ্জ মহিলা সমিতির সভাপতি আপরোজা জগনু বলেন, শিশু সন্তানের মা চাকুরে মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন আছে। আজকের শিশু ভবিষ্যত প্রজন্ম। এদের গড়েপিঠে তোলার দায়িত্ব কেবল তার পরিবারেরই নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রেরও বটে। তাই শিশুটি যাতে সঠিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং তার শারীরিক মানসিক বিকাশ ঘটতে পার তার জন্য যা যা প্রয়োজন সম্মিলিত ভাবে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, শিশু সন্তানের জন্য কর্মজীবী মাকে প্রয়োজন মত কর্মস্থল থেকে ছাড়দিতে হবে। (শিশু সাংবাদিক, শিশু প্রকাশ)
|